শিলিগুড়ি, ৮ আগস্টঃ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থাই এবার কাঠগড়ায়। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-র বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিগত ১৫ বছরে সংস্থার আয়-ব্যয়ের পুরো হিসাব অডিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তৎকালীন আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেও শুরু হবে তদন্ত। তদন্তের জন্য প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর শুক্রবার ফের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বৈঠকে বসল এসজেডিএ। দার্জিলিঙের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্করের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ ও অর্থমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
বৈঠক শেষে শংকর বলেন, গত ১৫ বছরের আর্থিক লেনদেনের অডিট করা হবে। দুর্নীতির সঙ্গে নেতা, মন্ত্রী বা আধিকারিক যে-ই যুক্ত থাকুন না কেন, তদন্তে কাউকে রেয়াত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা সামনে এলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে শুধু অতীতের হিসাব খতিয়ে দেখেই থেমে থাকতে চাইছে না নতুন প্রশাসন। এসজেডিএ-র কাজের গতি ফেরাতে তৈরি হয়েছে ১০০ কোটি টাকার নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, শ্মশানঘাটের সংস্কার এবং আধুনিক আলোকসজ্জার মতো নাগরিক পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্ষা শেষ হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসজেডিএ-র আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ির মতো এলাকার বিধানসভা কেন্দ্রগুলিকে সংস্থার অধীনে আনার জন্য নগরোন্নয়ন দফতরে আবেদন করা হবে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাসের উল্টো দিকে থাকা পুরনো এসজেডিএ ভবন ভেঙে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থাৎ এক দিকে অতীতের ১৫ বছরের হিসাবের খাতা খুলছে তদন্ত, অন্য দিকে নতুন করে উন্নয়নের নকশা আঁকছে এসজেডিএ। এখন দেখার, অডিট ও তদন্তে সেই পুরনো হিসাবের পাতায় শেষ পর্যন্ত কার কার নাম উঠে আসে।





