ইসলামপুর, ৮ আগস্টঃ স্কুলে যাওয়ার পথটাই যে তাঁর শেষ পথ হবে, তা কে জানত! শনিবার সকালে মোটরবাইকে চেপে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেও আততায়ীদের পিছু নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। শেষ পর্যন্ত বাইক-সহ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। ইসলামপুরে স্কুলের পথে প্রধান শিক্ষক খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিহত নজরুলের বয়স ৫৫ বছর। তিনি রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও নিজের মোটরবাইকে স্কুলে যাচ্ছিলেন তিনি। মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছনোর পরই বাইকে আসা আততায়ীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় দোকানদার মহম্মদ ইসমাইলের দাবি, গুলির আওয়াজ শুনে দোকান থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় বাইকের উপর রয়েছেন নজরুল। সামনে দিয়ে দুই আততায়ী পালানোর চেষ্টা করছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই তাঁদের পিছু নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই শিক্ষক। কিছুটা এগোনোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক-সহ রাস্তায় পড়ে যান তিনি।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নজরুল স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তিনি শাসকদলের শিক্ষা সেলের অন্যতম নেতা ছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই হামলা, নাকি এর পিছনে রয়েছে পুরনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিবাদ সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর ইসলামপুরে শুরু হয়েছে তল্লাশি। আততায়ীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার স্কুল ছুটির পর চোপড়ার সোনাপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল নজরুলের।
প্রধান শিক্ষকের এই হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ঘটনাটিকে ‘সাংঘাতিক’ বলে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, কড়া হাতে দমন করা হবে।





