নৈহাটি, ৮ আগস্টঃ একের পর এক অভিযোগ। তার পর এ বার গ্রেপ্তার। শুক্রবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লেন নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। তোলাবাজি, জমি দখল এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শনিবার তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হবে।
সনৎকে ঘিরে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। এলাকার একাধিক জায়গায় জমি দখলের অভিযোগও সামনে এসেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই অভিযোগগুলির তদন্তে নেমেই শুক্রবার রাতে দত্তপুকুরে সনৎ দে-র অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এর পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে শনিবার আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে বলে সূত্রের খবর।
সনৎ দে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক বহু পুরনো। গত জুন মাসেও জনরোষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। নৈহাটির বিজয়নগরে বাড়ির কাছে দলীয় কার্যালয় খোলার সময় তাঁর দিকে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল।
এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়ে বলে জানা যায়। সেই অভিযোগগুলির সূত্র ধরেই তদন্ত এগোয়।
প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং সনৎ দে-র কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নৈহাটির মানুষ যে ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলছেন, তার জন্য কোনও ভাবেই তাঁকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
এখন পুলিশের তদন্তে সামনে আসার অপেক্ষা সনৎ দে-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পিছনে ঠিক কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, আর সেই তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।





