কলকাতা, ৮ জানুয়ারিঃ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসের ভিতরে থাকার পর বাইরে বেরিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ও ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অফিসের বাইরে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি মনে করি এটা একটা ক্রাইম, এটা মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি। আমাদের সব নির্বাচনী কাগজ চুরি করা হয়েছে।” সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “আমি সৌজন্যতা দেখাই। কিন্তু সেটা আমার দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। আপনারা আমার সব লুট করবেন আর আমি চুপ করে বসে থাকব?”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইপ্যাকের অফিস থেকে ঠিক কী কী নথি নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে বলেও তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “হিম্মত থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন। ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি চুরি করছেন কেন? এবার আমি যদি বিজেপির অফিসে তল্লাশি করি, সেটা কি ঠিক হবে?”
বিজেপিকে ‘ডাকাতের দল’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই বলেই ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে। আমাদের সব কাগজ, সব তথ্য লুট করা হয়েছে।” তল্লাশি চলাকালীন তিনি আইপ্যাকের অফিসের সামনেই বসে থাকবেন বলেও ঘোষণা করেন।
মমতার অভিযোগ, ভোর ছ’টা থেকে অভিযান শুরু করা হয়, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, “ইলেকশন ও এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা চুরি করা হয়েছে। আইপ্যাক কোনও সাধারণ প্রাইভেট সংস্থা নয়, এটা তৃণমূলের অথরাইজড টিম। টেবিল পর্যন্ত ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কাজ শুরু করতে গেলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে।”
এদিন সকালে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের সল্টলেকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে হানা দেয় ইডি। ইডি সূত্রে দাবি, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
এসআইআর ইস্যুতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “এসআইআর করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম কাটা হয়েছে। তারপরও বুঝতে পারছে বিজেপি জিততে পারবে না, তাই আমাদের স্ট্র্যাটেজি চুরি করা হলো।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।





