কলকাতা, ৮ জানুয়ারিঃ আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির নামে ইডিকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী নথি ‘চুরি’ করা হয়েছে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন এবং দলের পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইডির এই অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে থেকে রাজ্যের সর্বত্র ব্লক স্তরে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, “যেভাবে ইডিকে দিয়ে বিজেপি ডাকাতি করেছে, তার প্রতিবাদেই আজ বিকেলে আমাদের কর্মীরা পথে নামবেন।” মমতার দাবি, এই অভিযান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখেই তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোর ছ’টা থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়, এমন সময় যখন অফিসে প্রায় কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, “ইলেকশন আর এসআইআর সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা ওরা চুরি করেছে। এটা সরাসরি অপরাধ। আইপ্যাক কোনও সাধারণ প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটা তৃণমূল কংগ্রেসের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাজ থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল পর্যন্ত ফাঁকা করে দিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এভাবে যদি নতুন করে সব কাজ শুরু করতে হয়, তাহলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে। এটা পরিকল্পিতভাবে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের অফিসে যদি আমরা এইভাবে ঢুকি, তাহলে কি আপনারা মেনে নেবেন?”
ইডির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, যদি কোনও তথ্যের প্রয়োজনই হত, তবে তা ইডি বা আয়কর দফতরের মাধ্যমেই চাওয়া যেত। তাঁর দাবি, তল্লাশির আড়ালে তথ্য লুট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র মন্তব্য, “বিজেপিই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাত।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইডি অভিযানের পর রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।





