কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ রাজনীতির সমীকরণ বদলালে কি পুরনো দূরত্বও কমে? জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কে অন্তত তেমনই এক ছবি সামনে আসছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে ফের বিরোধীরা একজোট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই আবহে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দু’জনের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। চিঠি চালাচালিও হয়েছে বলে দাবি।
জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি। লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষেই সেই উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রস্তাবটি এগোলেও তৃণমূলও সমর্থন করবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই জায়গাতেই নজর কেড়েছে মমতা-বেবি যোগাযোগ। কারণ, বামেদের সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক দূরত্ব নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতার উত্থানের অন্যতম প্রধান অধ্যায়ই ছিল বামফ্রন্ট বিরোধী আন্দোলন। জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী জোটের মঞ্চে মমতা ও বাম নেতৃত্বকে পাশাপাশি দেখা গেলেও, রাজ্যের সমীকরণে সিপিএমকে নিয়ে বরাবরই তাঁর আপত্তি ছিল।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর সেই অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ভোটে পরাজয়ের পর প্রকাশ্যেই বামেদের বৃহত্তর বিরোধী পরিসরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা। তখন সিপিএমের তরফে সেই আহ্বানে সাড়া মেলেনি। এবার নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক সেই দূরত্ব কিছুটা কমাচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভের প্রেক্ষাপটও বদলেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের একাধিক আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মমতা ইতিমধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেফতারি এবং বাংলায় পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন মমতা। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যু আপাতত শুধু নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলন নয়, বিরোধী দলগুলির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের পরীক্ষার মঞ্চও হয়ে উঠছে। আর সেই সমীকরণে মমতা-বেবির যোগাযোগই এখন সবচেয়ে বেশি নজরে।





