মালদা, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ মালদা যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদক শিল্পের ঘাঁটিতে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে গত দুই মাসে প্রায় ৭২ কিলোগ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ১২০ জনকে, যাদের মধ্যে অনেকে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। গোটা রাজ্যের মধ্যে মাদক তৈরি ও পাচারের ক্ষেত্রে মালদা এখন অন্যতম শীর্ষে উঠে এসেছে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য অসম, মণিপুর এবং মেঘালয় থেকে কাঁচামাল এনে মালদায় তৈরি করা হচ্ছে হিরোইন বা ব্রাউন সুগার। এরপর স্থলপথের পাশাপাশি কখনও কখনও আকাশপথও ব্যবহার করা হচ্ছে এই মাদক পাচারের জন্য। রাজ্যের পাশাপাশি দেশ-বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে এই চক্রের জাল।
মালদা জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকবিরোধী বিশেষ টিম গঠন করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যুবসমাজকে এই নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিন জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বলেন, “পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয়। স্কুলে স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি করা হচ্ছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম এই বিপদ থেকে দূরে থাকুক।”
তবে জেলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। বরিষ্ঠ নাগরিক ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, “পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বেকারত্বের জ্বালায় অনেকেই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা আতঙ্কিত।”
অন্যদিকে যুব নাগরিক শুভ দাস-এর দাবি, “পুলিশ ভালো কাজ করছে, তবে কারও না কারও মদতেই এই চক্র চলছে। এর ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে।”
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে অবৈধ পথে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও পাল্টা দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন জানান, “মালদায় মাদক বাড়ছে না, বরং কমছে। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে যে অভিযান চলছে, তাতে আগামী দিনে মাদক নির্মূল সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, লাগাতার উদ্ধার ও গ্রেফতারি প্রমাণ করছে মাদকচক্রের বিস্তার কতটা গভীর। প্রশাসনের দাবি, কঠোর নজরদারি ও সচেতনতার মাধ্যমে এই দৌরাত্ম্য রুখতেই এখন জোর প্রচেষ্টা চলছে।





