হুগলি, ১২ এপ্রিলঃ ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চাঞ্চল্য তৈরি করল দলবদলের ঢেউ। রবিবার অভিষেক ব্যানার্জী-র হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন হুগলি জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সুরেশ সাউ। সপ্তগ্রামের ডানলপ কোয়ার্টার গ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভায় তিনি সহ একাধিক বিজেপি নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলে যোগ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন বাঁশবেড়িয়া মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়, হুগলি জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রভাত গুপ্ত, সহ-সভাপতি রাজেশ যাদব, প্রাক্তন সভাপতি সুমিত অধিকারী, প্রাক্তন যুব সভাপতি পবন চৌধুরী, সোশ্যাল মিডিয়া সহ-আহ্বায়ক অর্ণব দাস, এসসি/এসটি সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস, চুঁচুড়া মণ্ডল সভাপতি বিবেক সাউ এবং কিষাণ মোর্চা সভাপতি সনৎ নন্দী।
মঞ্চ থেকেই অভিষেক ব্যানার্জী যোগদানকারীদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন। তৃণমূলের দাবি, “মা-মাটি-মানুষ”-এর আদর্শ এবং মমতা ব্যানার্জী-র উন্নয়নমূলক কাজেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপির নেতারা দলে যোগ দিয়েছেন।
এদিনই বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রেও তৃণমূলে যোগদানের ছবি সামনে আসে। গোপালনগর ২ পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার শাসকদলে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে কেউ বিজেপি, কেউ বা সিপিএমের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকায় উন্নয়ন হয়নি, সেই কারণেই তাঁরা দলবদল করেছেন। যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস।
যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই, নিজেদের লোকজনদের দিয়েই যোগদান করানো হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





