কলকাতা, ৭ ডিসেম্বরঃ দু’বছর পর আবার ডিসেম্বর মাসেই কলকাতার ব্রিগেডে আয়োজন করা হচ্ছে বৃহৎ গীতাপাঠের অনুষ্ঠান। ২০২৩ সালে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ নামে যে আয়োজন হয়েছিল, এ বার তার থেকেও বড় আকারের কর্মসূচি সাজিয়েছে আয়োজক সংস্থা ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’। তবে আয়োজনের আড়ালে বিজেপির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই অনুষ্ঠানের ঘোষণা প্রথম করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিশ্চিতভাবেই থাকছেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “আমন্ত্রণ পেয়েছি, অবশ্যই যাব। সকাল ৯টার মধ্যেই ব্রিগেডে পৌঁছে যাব।”
আয়োজকরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস উভয়কেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এ বার উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যপালও দিল্লিতে রয়েছেন, ফলে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গীতাপাঠের জন্য বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছে আয়োজকরা। ব্রিগেডে তৈরি হয়েছে তিনটি বড় মঞ্চ মুখ্য মঞ্চে থাকবেন দেশজোড়া খ্যাতনামা সাধুসন্তরা। এখান থেকেই অনুষ্ঠিত হবে গীতাপাঠ। দু’পাশে আরও দু’টি মঞ্চে বসবেন বাংলার সাধুসন্তরা, আর সামনে তৈরি হয়েছে একটি ছোট মঞ্চ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য। তিনটি ভক্তিগান দিয়ে শুরু হবে পুরো কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন আরএসএসের পূর্ব ভারতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। প্রধান অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, রিষড়া প্রেমমন্দিরের নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী, জগৎবন্ধু আশ্রমের বন্ধুগৌরব দাস মহারাজ। এছাড়াও আসতে পারেন স্বামী জ্ঞানানন্দ, যোগগুরু বাবা রামদেব, বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, সাধ্বী ঋতম্ভরা-সহ বহু সর্বভারতীয় ধর্মগুরু।
এবার আয়োজকদের দাবি, ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ মানুষ একসঙ্গে গীতাপাঠ করবেন। যদিও ২০২৩ সালের ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানেও সংখ্যার দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তখন উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার মানুষ। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ বার পাঁচ লক্ষ মানুষের বাস্তবিক উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে রাজনৈতিক মহল। হিন্দুত্ব ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আবহে এই মহা গীতাপাঠ যে আগামী দিনে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করতে চলেছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





