নন্দীগ্রাম,২৪ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রামের ভোটের লড়াই এ বার আদালতের দরজায়। ১৯ বছরের পুরনো মামলায় জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার জামিনের মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, “কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি। তাঁকে ভোটে লড়তে দিন।” তবে জামিনের চূড়ান্ত নির্দেশের জন্য ফের শুনানি হবে শুক্রবার বিকেল ৪টেয়।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। প্রচার শেষ হওয়ার কথা ৪ অক্টোবর। ফলে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে। এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতও রাজ্যকে জানিয়েছিল, জামিন পেলে মিলন যাতে উপনির্বাচনে যথাযথ ভাবে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মিলনকে ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনপর্বের মামলায়। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার পুরনো মামলায় একাধিক অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা ছিল। হালদিয়া আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এবং পরে কাঁথি আদালত একটি পৃথক মামলায় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
এই গ্রেফতারির সময় নিয়েই রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে পুরনো মামলা সক্রিয় করে প্রার্থীর প্রচারের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অন্য দিকে, রাজ্যের বক্তব্য, আদালতের জারি করা পুরনো পরোয়ানা অনুযায়ীই পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, কয়েকটি পরোয়ানা ২০২১ সাল থেকেই মুলতুবি ছিল এবং নির্বাচনের আগে সেগুলি কার্যকর করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
এর মধ্যেই বুধবার আরও একটি ২০০৭ সালের মামলায় মিলনকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানো হয় বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ফলে তাঁর জামিন না হলে ভোটের আগে প্রচারে নামার সুযোগ কার্যত থাকছে না।
এখন নজর শুক্রবার বিকেল ৪টার শুনানিতে। অন্তর্বর্তী জামিনের ইঙ্গিত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই নির্ভর করছে নন্দীগ্রামের ভোটের আগে মিলন প্রধানের প্রচারে ফেরার সম্ভাবনা।






