নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ সংসদ অভিযানে পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের উপর বলপ্রয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন কংগ্রেস নেতা।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, ‘‘গতকাল যা ঘটেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু তিনি এখনও নীরব। মানুষকে মারধর করা ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী।’’ তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে।
শুধু পুলিশি পদক্ষেপ নয়, আন্দোলনের নেপথ্যের কারণ নিয়েও কেন্দ্রকে প্রশ্নের মুখে তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা যে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তা শুধুমাত্র পরীক্ষাকে ঘিরে নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাঁর কথায়, ‘‘পরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অন্তঃসারশূন্য হয়ে গিয়েছে। আন্দোলনকারীদের কোনও দোষ নেই। প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব? শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে।’’
সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লি পুলিশের অনুমতি না থাকলেও বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। রাজধানীর যন্তর মন্তর এবং সংসদ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পরে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তবে সেই বৈঠকের পরেও আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। সংসদ অভিযানের পরবর্তী রাজনৈতিক অভিঘাত এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





