নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে কেন ‘পদ্ম-সন্ধি’ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কদের ? কেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, মালা রায়, অরূপ বিশ্বাস বা ববি হাকিমদের মতো দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের সঙ্গেও কালীঘাটের সম্পর্ক ক্রমশ আলগা হল? শুধু নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার তাগিদে, না কি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও রাজনৈতিক রসায়ন? নিচুতলার দিদি-অনুরাগী কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্রোহী তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, “শুধু নিজেদের সুরক্ষা নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিজেপির হামলা থেকে বাঁচাতেই ঘুরপথে পদ্ম-শিবিরের সঙ্গে বোঝাপড়ায় যেতে বাধ্য হয়েছি।”
বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে কলকাতায় আসা জেলার একাধিক বিদ্রোহী বিধায়ক গত কয়েক দিনে বিধানসভা চত্বরে ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করেছেন, ৪ মে-র পর প্রথম দু’সপ্তাহে এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগাতার হামলা, মিথ্যা মামলা এবং পুলিশি হয়রানির মুখে তাঁরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, কালীঘাটের তরফে বারবার লড়াইয়ের বার্তা এলেও বুথস্তরের কর্মীদের রক্ষায় বাস্তবিক কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। হামলার পরে পুলিশি পদক্ষেপ করাতেও তাঁরা ব্যর্থ হচ্ছিলেন। এক বিদ্রোহী বিধায়কের কথায়, “মুখে লড়াইয়ের কথা বলা হচ্ছিল, কিন্তু মাটিতে আমরা ছিলাম নিধিরাম সর্দার।”
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিজেপির সঙ্গে ‘সমঝোতা’র পরে অন্তত পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এলাকায় রাজনৈতিক হামলা কমেছে, পুলিশি হয়রানি ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অকারণ অভিযান’ অনেকটাই থেমেছে। হামলা বা মিথ্যা মামলার অভিযোগ নিয়ে এখন কথা বলার জায়গা তৈরি হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। একই সঙ্গে, নিজেদের বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দফতরে দরবার করে প্রকল্প আদায় করাও সহজ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। বিদ্রোহী বিধায়কদের কথায়, “ভোটের সময়ে মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রাখতে গেলে সরকারি সমর্থন চাই। এখন অন্তত সেই রাস্তা কিছুটা খুলেছে।” এই যুক্তিতেই ‘পদ্ম-সন্ধি’কে তাঁরা আত্মরক্ষার কৌশল নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বীকারোক্তি বলেই তুলে ধরতে চাইছেন।





