কলকাতা, ২৩ জুনঃ নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন ঘিরে মঙ্গলবার তৈরি হল তুমুল উত্তেজনা। সোমবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর এদিন রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট নিয়ে আলোচনার শুরুতেই শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের বিধায়কদের মধ্যে বেধে যায় প্রবল বাকবিতণ্ডা। কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। প্রথমবার বক্তব্য রাখতে উঠতেই বিজেপি বিধায়কদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কেউ কেউ আবার কটাক্ষ ছুড়ে প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কোন তৃণমূল?”
এর জবাবে কুণাল ঘোষও পালটা আক্রমণ শানান। বিজেপিকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, “এখনও হাতের আঙুলে কালি যায়নি, আমি বেইমান নই।” স্পিকারের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে ভয় পায় বলেই বলতে দিচ্ছে না। পাঁচ বছর আমায় ভয় পেয়ে চলুন, গুরুত্ব দিয়ে চলুন।” শুধু বিজেপিই নয়, কুণালের নিশানায় ছিল ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি কটাক্ষ করেন, “বালুরঘাটে যে ধর্ষণের মামলা রয়েছে, তাকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। বিজেপি বা বিজেপির স্পনসর বিধায়ক এঁরা। পাণ্ডবরা পাঁচজন ছিল, কৌরবরা একশো হয়েও বাঁচেনি।”
এই মন্তব্য ঘিরে হইচই আরও বাড়ে। ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা আপত্তি জানালে কুণাল তাঁকে ‘মেসি কাণ্ড’-এর প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেন পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি সকল পক্ষকে সংযত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রথম বক্তৃতার ক্ষেত্রেও বিধানসভার সৌজন্য ও প্রথা বজায় রাখা উচিত। তাঁর কথায়, “আরও পাঁচ বছর সময় আছে, অনেক বলার সুযোগ পাবেন। এখন রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা হোক।”
এদিন নিজের বক্তব্যে কুণাল ঘোষ হাথরাস-উন্নাও, অনুপ্রবেশ, রেড রোডে নমাজ বন্ধ-সহ একাধিক বিতর্কিত প্রসঙ্গ তোলেন। তবে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস সেই মন্তব্যগুলির বেশ কিছু অংশ বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।





