খবরিয়া ২৪ দেস্ক, ২১ জুলাইঃ সংসদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের পর আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নিতে হাসপাতালমুখী শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। মঙ্গলবার দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। পরে একই হাসপাতালে পৌঁছন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালও। সংঘর্ষের পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে রাজধানীতে।
হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন নাড্ডা। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। অন্য দিকে, কেজরীওয়ালের সঙ্গে ছিলেন আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও আতিশী। পরে কংগ্রেসের তরফে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমন করা হয়েছে। খাড়্গের দাবি, বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সরকার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা সংসদের সামনে স্পষ্ট করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, বিরোধীদের বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সোমবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ একাধিক দাবিতে সংসদ অভিযানে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লি পুলিশের অনুমতি না থাকলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে। যন্তর মন্তর চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বকেও আটক করা হয়।
অন্য দিকে, বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বিজেপি সাংসদ কে সুধাকর দাবি করেছেন, আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভে শুধু শিক্ষার্থী নয়, বহিরাগত এবং সমাজবিরোধী উপাদানও ছিল। কারা তাদের মদত দিয়েছে, তা তদন্তে সামনে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংসদ অভিযানের সংঘর্ষের পর আহতদের হাসপাতাল-পর্ব এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এক দিকে সরকারের সংবেদনশীলতার বার্তা, অন্য দিকে বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ রাজধানীর উত্তাপ আপাতত কমার লক্ষণ নেই।





