খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বরঃ বিজেপি শাসিত ওড়িশায় খুন হলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর দুই সহকর্মী মাজার খান ও নিজামুদ্দিন খান। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মুর্শিদাবাদের সুতি ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা জুয়েল রানা কর্মসূত্রে ওড়িশার সম্বলপুরে থাকতেন। গত ২০ ডিসেম্বর কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কাজে যোগ দিতে তিনি সেখানে যান। বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল একটি স্থানীয় চায়ের দোকানে যান, যেখানে আগে থেকেই তাঁর দুই সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তিনজন নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলছিলেন বলে অভিযোগ।
হাসপাতালের বেডে শুয়েই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন আহত মাজার খান। তাঁর কথায়, “কিছু লোক প্রথমে বিড়ি চায়, তারপর আধার কার্ড দেখতে বলে। হঠাৎ করেই জুয়েলের উপর চড়াও হয়। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা থেঁতলে ওকে খুন করা হয়।” আরেক সহকর্মী নিজামুদ্দিন খানের দাবি, তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা ও নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার জেরেই মৃত্যু হয় জুয়েলের।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে সম্বলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের পর কফিনবন্দি দেহ বৃহস্পতিবার সুতিতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনেরা।
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। X হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাবিরোধী প্রচারের ফলেই এই হত্যাকাণ্ড। যদিও ওড়িশা পুলিশ এই দাবি খারিজ করেছে। পুলিশের বক্তব্য, বাংলা বলা বা বাংলাদেশি সন্দেহে নয়, বিড়ি নিয়ে বচসার জেরেই এই সংঘর্ষ ও খুন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।





