খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ শীতের বাজারে আপেল, কমলালেবু বা আঙুরের ভিড়ে বারোমাসি ফল কলার গুরুত্ব অনেক সময় কমিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগার ভয়ে শীতকালে অনেকেই কলা খাওয়া এড়িয়ে যান। তবে পুষ্টিবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে কলা খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়, বরং এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার শীতকালীন শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।
শীতকালীন ডায়েটে কলা রাখার পাঁচটি প্রধান উপকারিতা হলো: প্রথমত, তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগ করে, ফলে সকালে একটি কলা খেলে সারাদিন উদ্যমী থাকা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, কলার ফাইবার হজম ক্ষমতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ম্যাগনেশিয়াম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা বজায় রাখে। চতুর্থত, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শীতের সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। পঞ্চমত, ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মনকে সতেজ রাখে ও শীতকালীন বিষণ্নতা কাটাতে সাহায্য করে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা প্রয়োজন। যাদের সাইনাস, অ্যাজমা বা তীব্র সর্দি-কাশি রয়েছে, তারা ভোর বা রাতে কলা এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া, ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়া উচিত।
শীতকালে কলা খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে। খালি পেটে নয়, দই বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে খেলে হজমও ভালো হয়। সঠিক সময়ে এবং পরিমাণে কলা খেলে এটি শীতকালীন সুস্থতার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলা রাখা স্বাস্থ্যকর ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।





