খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ২ সেপ্টেম্বরঃ রাজনীতিতে সমীকরণ বদলের গল্প বাংলায় নতুন নয়। সেই বদলের আবহেই এ বার আচমকা চর্চায় সায়নী ঘোষ। তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হওয়ার পর দলবদল করে বর্তমানে এনসিপিআই-এর সাংসদ তিনি। গত জুনে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লেখানোর পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে নানা জল্পনা। তার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা থলপতি বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন সায়নী। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন স্রেফ সৌজন্য, না কি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ?
সম্প্রতি যাদবপুরের সাংসদের তৃণমূল কার্যালয় ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মীদের আপত্তির জেরে ওই কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর ঘটনাও সামনে আসে। তার পর থেকেই কার্যত প্রচারের আলো থেকে দূরে ছিলেন সায়নী। আচমকা দক্ষিণের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেই নীরবতায় যেন নতুন মাত্রা যোগ করল।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিজয়কে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা দিচ্ছেন সায়নী। কখনও করজোড়ে কথা বলছেন, কখনও আবার একই ফ্রেমে হাসিমুখে নিজস্বী। তবে সাক্ষাতের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
সমাজমাধ্যমে সাক্ষাতের কথা জানিয়ে তামিলনাড়ুর উন্নয়ন, নতুন সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সায়নী। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি বিজয়ের ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তামিলনাড়ুর উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজয়ের পরিকল্পনার প্রশংসা করে তাঁকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
সায়নী-বিজয় সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও, সেটিকে নতুন জোট বা সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার মতো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নেই। রাজনীতির পাশাপাশি দু’জনেরই অভিনয় জগতের যোগ রয়েছে। ফলে সাক্ষাৎটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বাংলার এক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ যখন দক্ষিণের এক জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি ভাগ করে নেন, তখন প্রশ্ন উঠবেই। আপাতত উত্তর অমিল সৌজন্যের সাক্ষাৎ, না কি ভবিষ্যতের কোনও নতুন সমীকরণের প্রথম ফ্রেম?





