খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যেমন স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি জরুরি, তেমনই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না-এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। সম্প্রতি আইআইটি বম্বের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সিডিএস তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কোনও দেশের নাম না নিলেও স্পষ্ট ইঙ্গিতে পাকিস্তান ও চিনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ভারতের দুই প্রধান প্রতিপক্ষের একজন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং অন্যজন পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনওভাবেই তা ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না।
জেনারেল চৌহানের মতে, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে স্বল্প সময়ের কিন্তু অত্যন্ত তীব্র সংঘর্ষের জন্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দীর্ঘস্থায়ী, স্থলভিত্তিক যুদ্ধের প্রস্তুতিও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি, যদিও এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়াকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে জানান।
আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ করেন সিডিএস। তাঁর মতে, বর্তমান সামরিক কৌশল এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যাকে তিনি ‘কনভার্জেন্স ওয়ারফেয়ার’ বা সমন্বিত যুদ্ধপরিস্থিতি বলে অভিহিত করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, এজ কম্পিউটিং, হাইপারসনিক অস্ত্র, উন্নত উপাদান বিজ্ঞান ও রোবোটিক্স—এই সব প্রযুক্তির সম্মিলিত প্রভাব যুদ্ধের রূপ আমূল বদলে দিচ্ছে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর শুধু স্থল, আকাশ বা নৌপথে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। সাইবার, মহাকাশ এবং ‘কগনিটিভ ডোমেন’সহ সব ক্ষেত্রের সমন্বিত ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করবে সাফল্য। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ মাত্র চার দিনের সংঘর্ষে এই সমন্বিত যুদ্ধকৌশলের সাফল্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলেও জানান সিডিএস।





