আবদুল হাই, বাঁকুড়া: নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে শিউলিবনা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী মিলন উৎসব খেরওয়াল তুকৌ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও শময়িতা মঠ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে পাহাড়ঘেরা জনপদে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর ও রঙিন পরিবেশ। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অপূর্ব মেলবন্ধনে নতুন বছরের প্রথম দু’টি দিন কাটালেন হাজার হাজার মানুষ।
বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন জুড়ে শিউলিবনা গ্রাম পরিণত হয় আদিবাসী সংস্কৃতির এক উন্মুক্ত মঞ্চে। আদিবাসী নৃত্য, ঢাক-মাদলের তালে তালে লোকনৃত্য, বাউল গান এবং বিভিন্ন লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন শিল্পী ও দর্শনার্থীরা। পাহাড়, জঙ্গল আর খোলা আকাশের নিচে এই উৎসব যেন আদিবাসী জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
শময়িতা মঠের সম্পাদিকা ঋষিরিদ্ধা অনাহুতা জানান, এ বছর খেরওয়াল তুকৌ উৎসবে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে। শুধু বাঁকুড়া জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি ভিন্জেলা থেকেও বহু মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে শিউলিবনায় আসেন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে উৎসব চত্বর ছিল উপচে পড়া, তবুও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সব অনুষ্ঠান।
খেরওয়াল তুকৌ শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, আদিবাসী সমাজের মিলন ও ঐক্যের প্রতীক। নতুন বছরের সূচনায় এই উৎসবের মাধ্যমে আদিবাসীরা তাঁদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে নতুন করে স্মরণ করেন। পাশাপাশি এই উৎসবের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে।
উৎসব চলাকালীন গ্রামীণ হস্তশিল্প, আদিবাসী খাদ্য ও লোকজ সামগ্রীর স্টলও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অনেক দর্শনার্থীই জানান, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এই ধরনের উৎসব তাঁদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে শিউলিবনা গ্রামে অনুষ্ঠিত খেরওয়াল তুকৌ আবারও প্রমাণ করল সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের মিলনেই নতুন বছরের প্রকৃত আনন্দ। নতুন বছরকে রঙিন ও অর্থবহ করে তুলল পাহাড়ঘেরা এই আদিবাসী মিলন উৎসব।





