আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

ভোজশালায় একই দিনে সরস্বতী পুজো ও জুম্মার নমাজ, অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের,ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা, কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ প্রশাসনকে

Published on: January 22, 2026
---Advertisement---

খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ জ্ঞানবাপী বিতর্কের আবহেই নতুন করে জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা। বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একই দিনে পড়ায় ভোজশালা চত্বরে সরস্বতী পুজো ও জুম্মার নমাজ একসঙ্গে আয়োজন করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে জানাল, বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ই নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ভোজশালায় সরস্বতী পুজো ও জুম্মার নমাজ দুটিই অনুষ্ঠিত হবে। তবে সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। নির্দেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত নির্দিষ্ট অংশে জুম্মার নমাজ পাঠ করবেন। নমাজ শেষ হলে তাঁদের ওই এলাকা ত্যাগ করতে হবে। একইভাবে, সরস্বতী পুজোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চত্বর খালি করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে উভয় ধর্মের উপাসনা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত ভোজশালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। হিন্দুদের দাবি, এটি রাজা ভোজ নির্মিত প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি, ওই স্থাপনাটি একটি মসজিদ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে দুই সম্প্রদায়কে আলাদা আলাদা সময় উপাসনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার বসন্ত পঞ্চমী ও জুম্মার নমাজ একই দিনে পড়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে ভোজশালার অধিকার নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাদের দাবি ছিল, ২০০৩ সালের একটি নোটিসের ভিত্তিতে মুসলিমদের নমাজের অধিকার দেওয়া হলেও ভোজশালা আদতে একটি হিন্দু মন্দির। সেই মামলার পর আদালতের নির্দেশে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) ওই এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালায়।

সদ্য প্রকাশিত ASI রিপোর্টে ভোজশালা চত্বরে ৯৪টি মূর্তির অস্তিত্বের উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য হিন্দু পক্ষের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ও নিজেদের ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নে অনড়।

এই সংবেদনশীল আবহে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অনেকেই ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখছেন। এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ আদালতের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণভাবে দুই সম্প্রদায়ের উপাসনা নিশ্চিত করা এবং ভোজশালায় কোনওরকম অশান্তি এড়ানো।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

পড়তে ভুলবেন না

Leave a Comment