খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ আই-প্যাক কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্জি জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে দাখিল করা পিটিশনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনওরকম বাধা তৈরি না করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ছ’জনকে ‘পার্টি’ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সিবিআই-সহ অন্যান্যরা।
ইডি সূত্রে দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে উঠে এসেছে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়লা পাচারের টাকা ইডির নজরে এসেছে এবং তার একটি বড় অংশ গোয়ার আইপ্যাকের কাছে গিয়েছিল। ওই অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় বলে ইডির দাবি।
হাইকোর্টে ইডি প্রথমত আর্জি জানিয়েছে, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দ্রুত সিবিআই এফআইআর দায়ের করুক এবং অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা হোক। বিশেষ করে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ঘটনাস্থলে কেন গিয়েছিলেন এবং কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডির বক্তব্য, সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনেই তল্লাশি অভিযান চলছিল।
দ্বিতীয়ত, ইডির অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে ঢুকে পড়েন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইস জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সেই সমস্ত নথি ও ডিভাইস অবিলম্বে ইডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে। পাশাপাশি, যতক্ষণ না সেই নথি ও ডিভাইস ফেরত দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ কোনওরকম তথ্য বিকৃতি বা নথি নষ্ট না করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, তল্লাশি অভিযানের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে কোনওভাবে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ চেয়েছে ইডি। এই মামলাকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে, আর হাইকোর্টের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।






