খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ ইডির তল্লাশির মাঝেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা এই দৃশ্য ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। ফাইলে কী ছিল, ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী আদৌ কোনও নথি নিয়ে যেতে পারেন কি না এই প্রশ্ন তুলে সরব হয় বিরোধীরা। শুক্রবার হাজরার প্রতিবাদ সভা থেকে সেই সব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
হাজরার মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাল যা করেছি, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। চোরের মতো আমাদের সমস্ত ডেটা চুরি করতে এসেছিল।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে তৃণমূলের নির্বাচন কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন।” একই সঙ্গে নাম না করে নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেন তিনি। ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে মমতার কটাক্ষ, “ভ্যানিশ কুমার ভোট ভ্যানিশ করার কে? নাগরিকের অধিকার কেড়ে বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা করলে মানুষই জবাব দেবে।”
দিল্লি ও বাংলার ঘটনার তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের বিক্ষোভে গ্রেপ্তার করা হলেও বাংলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের লাল কার্পেট সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, মাথায় আঘাতের পর এখনও ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না।
বক্তব্যের শেষভাগে সবচেয়ে চড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গর্জন, “আমাকে এক দিন আটকালে আমি ১০০ দিনের ফসল তুলে নেব। মনে রাখবেন, সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর।” পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে বকেয়া জিএসটি ও উন্নয়ন তহবিল অবিলম্বে মেটানোর দাবিও জানান তিনি।





