খবরিয়া ২৪ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বরঃ ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের মর্মান্তিক মৃত্যুর মুখে পড়লেন বাংলার এক ভূমিপুত্র। ওডিশার সম্বলপুরে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে জুয়েল রানা নামে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওডিশার বিজেপি সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
নিহত জুয়েল রানা মুর্শিদাবাদের সুতি-১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি জুয়েল কয়েকদিন আগেই কাজের খোঁজে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সম্বলপুরে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার রাতে একটি চায়ের দোকানে বসে তাঁরা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পাঁচজনের একটি দল তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করে চড়াও হয়। শ্রমিকেরা বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখালেও অভিযুক্তরা তা মানতে অস্বীকার করে। প্রাণের ভয়ে জুয়েলের সঙ্গীরা পালিয়ে গেলেও তাঁকে ধরে ফেলে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বারবার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষায় কথা বলাই কি আজ অপরাধ?” রাজ্যসভা সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি সরাসরি নজরে রেখেছেন এবং দেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয়ে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।” সুতিতে নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে, গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।





