মালদা, ২৮ ডিসেম্বরঃ একসময় হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন, জেলও খেটেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করেই স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মালদহের গাজোলের প্রাক্তন কেএলও সদস্য সতীশ রাজবংশী। কিন্তু সেই স্বপ্নে এবার বড় ধাক্কা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তাঁর জমি দখল ও রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সতীশ রাজবংশীর অভিযোগ, গাজোল কলেজ সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে প্রায় আড়াই বিঘা জমি তিনি ধার-দেনা করে কিনেছিলেন। ২০২১ সালেই প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হলেও আজ পর্যন্ত ওই দুই জমির মালিক রেজিস্ট্রি করে দেননি। উল্টে জমিতে নামতে গেলে পুলিশ ও শাসকদলের একাংশকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সতীশবাবু বলেন, “এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা অস্ত্র ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরেছিলাম। সমাজের পথে চলার জন্যই এই জমি কিনে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন যদি এভাবে প্রতারণা করা হয়, জমি দখল করা হয়, তাহলে আমাদের আবারও পুরনো পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে গাজোল থানার পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিনা স্টেশন সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন সতীশ রাজবংশী। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ব্যাঙ্ক ঋণ ও জমানো অর্থের মাধ্যমে ওই জমিতে একটি কোণ প্ল্যান্ট স্থাপন করা এবং কিছু অংশ বসতি হিসেবে বিক্রি করা। বিশ্বাস করেই তিনি চার বছর আগে পুরো টাকা মিটিয়ে দেন। কিন্তু তারপর থেকে রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা, জমির কথা তুললেই হুমকি ও পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে অমিত প্রসাদ ফোনে দাবি করেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, “তৃণমূলের কাজই হচ্ছে অসহায় মানুষের জমি দখল করা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে তৃণমূল পরিচালিত গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত জানি না। দল কোনওভাবেই এতে জড়িত নয়। অভিযোগ হলে প্রশাসন তদন্ত করবে।”





