বনগাঁ, ২২ ডিসেম্বরঃ বনগাঁর ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়িকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষের গাড়িতে তালা মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র কটাক্ষ ও পালটা কটাক্ষ। এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের দীর্ঘদিনের বিবাদ। পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেসও।
রবিবার সকালে বিজেপির জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করতে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে যান। অভিযোগ, সেই সময় গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক তাঁকে ঘিরে ধরে গাইঘাটা ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি কে হবেন, তা জানতে চান। বিকাশ ঘোষ কোনও স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় চার মাস ধরে ওই মণ্ডলের সভাপতি ঘোষণা না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এরপরই উত্তেজিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিকাশ ঘোষের গাড়ির সামনের চাকায় শিকল দিয়ে তালা মেরে দেন বলে অভিযোগ। ফলে গাড়িটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ঘটনার খবর ছড়াতেই ঠাকুরবাড়ি চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংসদ শান্তনু ঠাকুর নিজে এগিয়ে এসে জেলা সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে শিকল খুলে গাড়ি বের করার ব্যবস্থা করেন। সেই সময় দুই ভাই শান্তনু ও সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে প্রকাশ্যে তর্ক-বিতর্ক হয় বলে অভিযোগ।
শান্তনু ঠাকুর বলেন, “জেলা সভাপতি দলীয় কাজে আমার কাছে এসেছিলেন। মণ্ডল সভাপতি কে হবেন, তা দল ঠিক করবে। তাঁর কথামতো না চলায় গাড়িতে তালা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জার।” অন্যদিকে সুব্রত ঠাকুরের দাবি, “আমি নয়, ক্ষুব্ধ কর্মীরাই গাড়িতে তালা দিয়েছে।”
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি উশৃঙ্খল। মণ্ডল সভাপতি করা নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারার ফলেই এই গণ্ডগোল।”





