খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ আইপ্যাক কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। ইডি-র বিরুদ্ধে তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ হয়ে গেল উচ্চ আদালতে। কারণ হিসেবে আদালতে ইডি স্পষ্টভাবে জানায়, প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট কিংবা সল্টলেকের অফিস থেকে কোনও নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ তারা বাজেয়াপ্ত করেনি।
শুনানির সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু অন রেকর্ড বলেন, “ইডি কোনও কাগজপত্র বা ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করেনি। যে নথি ওই দিন নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।” এই বক্তব্যের পরই তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী জানান, ইডি যদি এই কথাটি আদালতের নথিতে স্বীকার করে, তাহলে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
এরপর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলাটি খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি তিনি জানান, এই সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই শীর্ষ আদালতের রায়ের অপেক্ষা করাই যুক্তিসঙ্গত। সেই কারণে কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে আর শুনানির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য, আইপ্যাক ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি-র তল্লাশির দিন ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। পরে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়, যা ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়।
এই ঘটনার পর তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে। পাল্টা তৃণমূলও আদালতের দ্বারস্থ হয়, দাবি করে রাজনৈতিক দলের গোপন ডেটা সুরক্ষার। তবে ইডির বক্তব্যে সেই দাবি কার্যত খারিজ হয়ে গেল।
এখন এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি। আগামী ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





