খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ওবিসি শংসাপত্রকে প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় আগে বাতিল হয়ে যাওয়া ওবিসি শংসাপত্র ব্যবহার বন্ধের আর্জি জানিয়ে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারী। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ওবিসি শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশনকে আগামী সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণসহ জানাতে হবে, বাতিল হয়ে যাওয়া ওবিসি শংসাপত্র আদৌ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না। আদালতের এই নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া ও ওবিসি সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন করে জোরালো হলো।
মামলাকারীর অভিযোগ, ২০১০ সালের পর থেকে রাজ্যে জারি হওয়া অধিকাংশ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে গেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেটকে যেন কোনওভাবেই মান্যতা না দেওয়া হয়, সেই দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও কমিশন এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাকারী আরও দাবি করেন, গত বছরের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছিল, ওই নথিগুলি ভবিষ্যতে আর কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। সেই রায় কার্যকর থাকলে এসআইআর প্রক্রিয়াতেও ওই সার্টিফিকেট ব্যবহার করা বেআইনি বলে তাঁর যুক্তি।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৭৭টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর থেকে তৈরি রাজ্যের সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দেয়। এর ফলে এক ধাক্কায় প্রায় ১২ লক্ষ সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যায়। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে রাজ্যকে নতুন করে সমীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে ওবিসি সংক্রান্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে শুনানি ও নথি যাচাই। কমিশনের ঘোষিত ১৩টি প্রমাণপত্রের তালিকায় ওবিসি জাতিগত শংসাপত্র থাকায়, বাতিল হওয়া সার্টিফিকেটের ব্যবহার নিয়েই হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়।





