খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মেঃ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতিতেও। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশে পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আবেদন জানান।
প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত।” তাঁর বক্তব্য, এর ফলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে না, যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই কেন্দ্র আগাম সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
সূত্রের খবর, সরকার এখনও সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির উপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল সংস্থাগুলির প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণেই আগামী ১৫ মে-র আগেই জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ভোট মিটতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে বড়সড় বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম একধাক্কায় ৯৯৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি অটোর এলপিজির দামও লিটারপিছু ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এবার কোপ পড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেল এবং মধ্যবিত্তের রান্নার গ্যাসেও।
অর্থনৈতিক মহলের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই জ্বালানি সাশ্রয় এবং সংযত ব্যবহারের উপর এখন থেকেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।





