কলকাতা, ৫ আগস্টঃ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাসনের জীবন। জন্মভূমিতে ফেরার ইচ্ছা আজও অটুট, অথচ ফেরার পথ এখনও বন্ধ। কলকাতা ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই আক্ষেপই উজাড় করে দিলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তসলিমার কথায়, “বাংলাদেশে অবশ্যই ফিরতে চাই। ৩২ বছর ধরে নির্বাসনে আছি। কিন্তু আমাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশের সরকার আমার পাসপোর্ট নবীকরণ করে না। এমনকি আমার সুইডিশ পাসপোর্টেও বাংলাদেশে যাওয়ার ভিসা দেওয়া হয় না। ফলে ফিরে যাওয়ার মতো কোনও বৈধ নথিই আমার হাতে নেই।”
জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার যন্ত্রণা থাকলেও কলকাতা তাঁকে আবারও আবেগে ভাসিয়েছে। দীর্ঘ উনিশ বছর পর এই শহরে ফিরে মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছেন বলে জানান লেখিকা। তাঁর কথায়, “কলকাতা থেকে খুব ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরছি। মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছি যে চোখে জল এসে গিয়েছে। কলকাতা যখনই ডাকবে, আমি আবার আসব।”
তসলিমা জানান, আপাতত তিনি ভারতেই থাকবেন। আগামী অক্টোবর অথবা জানুয়ারিতে ফের কলকাতায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, আগামী কলকাতা বইমেলায়ও উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। সেখানেই প্রকাশিত হবে তাঁর আত্মজীবনীর পরবর্তী খণ্ড।
২০০৭ সালে বইকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্রায় দুই দশক পরে ফিরে শহরের নানা স্মৃতিবিজড়িত জায়গায় সময় কাটিয়েছেন তিনি। কফি হাউসে আড্ডা থেকে শুরু করে পানিহাটিতে বেগম রোকেয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা সব মিলিয়ে এই সফর তাঁর কাছে ছিল আবেগঘন।
তবে সফরের শেষে বারবার ফিরে এসেছে একটাই আক্ষেপ জন্মভূমিতে ফিরতে চান, কিন্তু সেই দরজা এখনও তাঁর জন্য বন্ধ। কলকাতার উষ্ণ অভ্যর্থনা সঙ্গে নিয়েই আবারও বিদায় নিলেন নির্বাসিত লেখিকা।





