নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্য ঘিরে টানা বিতর্কের পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা। আর তার পরই যেন কিছুটা বদলে গেল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের অবস্থান। সোমবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে ছিল না; বরং ‘নব্য বিজেপি’ কর্মীদের উদ্দেশেই তা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য, এফআইআর হলেও তিনি ভয় পাচ্ছেন না এবং আগাম জামিনের আবেদনও করবেন না।
এর আগে বিধানসভার অধিবেশনে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দুটি ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “দেশে সংবিধান ও আইনই শেষ কথা বলে।” তাঁর আরও মন্তব্য, “এটাই শেষ বক্তব্য। এ ভাবে আর বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না।”
এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধানসভার বাইরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, “আমি মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের নাম করে কিছু বলিনি। নতুন বিজেপিদের উদ্দেশেই মন্তব্য করেছিলাম।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, ছেলেকে নির্বাচনে জেতাতে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতেই পারেন, তবে মুসলিম ভোট একত্রিত করার জন্য ওই মন্তব্য করেননি।
হুমায়ুন আরও অভিযোগ করেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে প্রশাসনিক নির্দেশের বাইরে গিয়ে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের পরই হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে স্পষ্ট সংযমের ছাপ দেখা গিয়েছে। যদিও তিনি নিজের মন্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করেননি, তবু তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিতর্কের অভিঘাত কমানোর চেষ্টা করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।





