মুর্শিদাবাদ, ২২ ডিসেম্বরঃ মুর্শিদাবাদে সোমবার এক বিশাল জনসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তাঁর নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই নেতার ডাকে আয়োজিত সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। প্রায় ৪৯ বিঘা জমির ওপর তৈরি করা হয় সুবিশাল সভাস্থল, যেখানে ২৩০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চ নজর কাড়ে সকলের।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আগেই একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছিল। হুমায়ুন কবীরের দাবি, এই হেল্পলাইনে ফোন করলে স্বেচ্ছাসেবকরা সভাস্থলে পৌঁছতে আগত মানুষদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে কোনওরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
বেলা ১২টা নাগাদ নতুন দলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখান থেকে তীব্র ভাষায় বক্তব্য রাখেন হুমায়ুন কবীর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাসকদলের হয়ে পুলিশ যদি তাঁদের কর্মসূচিতে কোনও বাধা দেয়, তাহলে তাঁর দলের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট থানা ঘেরাও করতে পিছপা হবেন না। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সভা থেকেই হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। তাঁর দাবি, এর মধ্যে ৭০ থেকে ৯০টি আসনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এদিনের সভায় চার লক্ষেরও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলেও আগেই দাবি করেছিলেন তিনি।
নতুন দলের নাম হিসেবে উঠে এসেছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। দলের পতাকাও এদিন প্রকাশ্যে আনা হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২১ সালের আগে নওসাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সাফল্যের নজির সামনে রেখে হুমায়ুন কবীরের দলও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ে।





