কলকাতা, ৭ ডিসেম্বরঃ রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে নবান্ন। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের যোগ রয়েছে, সেগুলির কাজের গতি বাড়াতে এবার উদ্যোগী হল রাজ্য প্রশাসন। বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করতে পদস্থ আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমেই তাঁদের নজর থাকবে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে। উপভোক্তারা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন কি না, না পেলে তার কারণ, কিংবা টাকা পেয়েও বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ না হলে তার নেপথ্যের সমস্যা সবই খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। কোথাও জমির অভাবে নির্মাণ আটকে থাকলে তার সমাধানের পথও নির্দেশ করবেন।
আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘উন্নয়ন’-ই যে বড় ইস্যু হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। সেই কারণে প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য। পশ্চিম মেদিনীপুরে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার বাড়ির কাজ শেষের পথে। ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও ১ লক্ষ ৭৬ হাজার উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া রাস্তাঘাট সংস্কারের ‘পথশ্রী’ প্রকল্পেও জেলার মানুষের প্রত্যাশা অনেক। কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল বহু জায়গায়। পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘পথশ্রী-৪’ প্রকল্পে নতুন ৬৫৯টি রাস্তা অনুমোদন পেয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে মানুষের মন জেতা কঠিন হবে। একইভাবে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পেও প্রতি বুথে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ব্লক অনুযায়ী ১০-১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নিকাশি নালা, রাস্তা, স্কুল ভবন সংস্কার, কালভার্ট-এ ধরনের কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন না হলে ক্ষোভ থেকেই যাবে বলে মত স্থানীয়দের।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পদস্থ আধিকারিক মণীশ জৈনকে। পূর্ব মেদিনীপুরে দায়িত্বে থাকছেন বিনোদ কুমার এবং ঝাড়গ্রামে ছোটেন ডি লামা। শীঘ্রই তাঁরা জেলা সফরে গিয়ে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
নির্বাচনের আগে ‘সার’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) শেষ হতে না হতেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। তার আগেই উন্নয়নকে চোখে পড়ার মতো গতি দিতে মরিয়া রাজ্য সরকার।





