কলকাতা, ১৮ আগস্টঃ জাতিগত শংসাপত্র যাচাই নিয়ে বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের। ২০১১ সাল থেকে দেওয়া তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র যাচাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না রাজ্য।
২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ১৪ মে জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। তাতে ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু হওয়া এসসি, এসটি এবং ওবিসি শংসাপত্রগুলি যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছিল। যাচাইয়ে কোনও শংসাপত্র ভুয়ো প্রমাণিত হলে তা বাতিল করার সম্ভাবনার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কয়েক জন মামলাকারী। মামলার শুনানিতে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর যুক্তি, রাজ্য সরকারের এই বিজ্ঞপ্তির জেরে বহু মানুষের বৈধ জাতিগত শংসাপত্রও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনকি শংসাপত্র বাতিল করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
অন্য দিকে, রাজ্যের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র পাল্টা যুক্তি দেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার কার্ড, আধার-সহ বিভিন্ন নথি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের জাতিগত পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে সরকার। ভুয়ো শংসাপত্র চিহ্নিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও সওয়াল করে রাজ্য।
তবে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপাতত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশে এখনই ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শংসাপত্র যাচাই বা বাতিলের মতো কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না সরকার।
জাতিগত শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে নতুন সরকারের ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আপাতত সেই প্রক্রিয়াতেই ব্রেক পড়ল।





