বীরভূম, ৯ অক্টোবরঃ দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষী পেলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর জন্য নিয়োগ করা হয়েছে এক জন সশস্ত্র দেহরক্ষী। শুক্রবার সকাল থেকেই ওই দেহরক্ষী তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অনুব্রত। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। যদিও নিরাপত্তা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জেলা পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথম বার সিউড়ির পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। অভিযোগ, সেই সময় তিন যুবক লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এসি, কাচের জানলা, টেবিল ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। অনুব্রতের সামনেই কাচের টেবিলেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি। ঘটনায় তিন জনকে আটক করে পুলিশ।
এই ঘটনার পর অনুব্রতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একসময় রাজ্য সরকারের তরফে নিরাপত্তা পেতেন বীরভূমের এই তৃণমূল নেতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তার পর থেকে ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের উপরেই নির্ভর করছিলেন তিনি। এ বার ফের সরকারি নিরাপত্তার ব্যবস্থা হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শুক্রবার সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পুরনো একটি মামলার কাজে ব্যস্ত থাকায় সেখানে যাননি অনুব্রত। এ দিনই সরকারি দেহরক্ষী পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, আগে থেকেই দু’জন বেসরকারি দেহরক্ষী রয়েছেন। এ বার রাজ্য সরকারের তরফে আরও এক জন দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের দাবি, দলীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের কাছেই ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। অনুব্রতের নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা চললেও, সরকারি দেহরক্ষী নিয়োগের কারণ নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।





