খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ বছরের পর বছর বন্যা আর জলযন্ত্রণার আতঙ্কে থাকা ঘাটালের জন্য অবশেষে আশার আলো। বুধবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের তিনবারের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব (দীপক অধিকারী), রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা, স্থানীয় বিধায়ক ও অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
একই মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২০ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে রাজ্যের মোট ব্যয় হবে ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৫৬৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৭৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ২১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১৬টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিনের দাবি হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহযোগিতা না মেলায় এতদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৪ সালে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব পাঠানো হলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিল থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রাথমিকভাবে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ দেব বলেন, “লোকসভা ভোটের সময় ঘাটালের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, মাস্টার প্ল্যান হবেই। আজ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।” তিনি জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল।
প্রশাসনের দাবি, এই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের মোট ১১টি ব্লক ও দুই পুরসভার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যা ও জলযন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন। বছরের পর বছর যে ঘাটাল ছিল বন্যার প্রতীক, এবার সেই ঘাটাল নতুন পরিচয় পাবে এই আশাতেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।





