কলকাতা, ৯ মেঃ ২০১১ সালের ২১ জুলাই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল এক নতুন যুগের সূচনা। সদ্য ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকার। সেই আবহেই শহিদ দিবসকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ওই মঞ্চেই অজান্তেই বপন হয়েছিল ভবিষ্যতের দ্বন্দ্বের বীজ, যার ফল মিলল পনেরো বছর পর।
সেই ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করা হয় ‘যুবা’ নামের একটি নতুন সংগঠনের, যার নেতৃত্বে আনা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের নিজস্ব যুব সংগঠন থাকা সত্ত্বেও এই সমান্তরাল কাঠামো তৈরি নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকের মতে, অভিষেককে দ্রুত রাজনীতির মূলধারায় তুলে আনতেই এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তেই ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে
কিছুদিনের মধ্যেই যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে আনা হয় এবং সেই জায়গায় আসেন সৌমিত্র খাঁ। দলীয় অন্দরে তখন থেকেই ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ‘যুবা’ সংগঠনের দায়িত্বও ঘুরপথে অভিষেকের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহই শুভেন্দুকে ধীরে ধীরে প্রান্তিক করে তোলে।
২০১৪ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডায়মন্ড হারবার থেকে লোকসভা প্রার্থী করা হয়—যা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন তুলনামূলক কঠিন তমলুক কেন্দ্র থেকে। কিন্তু দু’বছরের মধ্যেই শুভেন্দুকে জাতীয় রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় আনা হয়, যা নিয়েও নানা ব্যাখ্যা সামনে আসে।
ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে বাড়তে ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ধারাবাহিক আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। অবশেষে ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির জয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সেই ব্রিগেড মঞ্চেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১-র ব্রিগেডেই শুরু হয়েছিল এই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অধ্যায়, যার পূর্ণতা মিলল ২০২৬-এ। এক মঞ্চ, দুই ভিন্ন সময়—বাংলার রাজনীতিতে এ যেন এক বিরল সমাপতন।





