কলকাতা, ৯ মেঃ বাংলা জয়ের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেই তিনি বঙ্গবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন। সকাল থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ব্রিগেড, জনতার ঢল নেমেছিল চারদিক থেকে। কার্যত জনসুনামির চিত্র দেখা যায় গোটা ময়দানজুড়ে।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই কলকাতায় পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে সরাসরি ব্রিগেডে আসেন তিনি। মঞ্চে উঠে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর মঞ্চের কেন্দ্রে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে মাথা নত করে জনতার উদ্দেশ্যে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন, যা উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথানত করছি।” এবারের নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার চালিয়ে বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন চেয়েছিলেন তিনি। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক বেশি আসন জিতে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি সরকার গঠন করেছে।
এই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে তিনি দিল্লিতে ফিরে যান।
তবে দিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী এক প্রবীণ ব্যক্তির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। ওই ব্যক্তি মাখনলাল সরকার, বয়স প্রায় ৯২ বছর। তিনি বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপদ মুখার্জী-এর কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন এবং সেই সময় জেলও খেটেছিলেন। মোদিকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ব্রিগেডের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক পালাবদলের নয়, আবেগ, ইতিহাস ও জনসমর্থনের এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে রইল।





