কলকাতা, ৯ মেঃ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ শপথগ্রহণের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোজা পৌঁছে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি-তে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক কাজের সূচনা করেন। এই প্রতীকী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাংলা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা দেন তিনি।
জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি এখন আর কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে চাই না। আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সকলের।” সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “তাঁদের চৈতন্য হোক।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এখন আর পারস্পরিক দোষারোপের সময় নয়, বরং এগিয়ে যাওয়ার সময়। তাঁর কথায়, “এখন অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা শুধু সামনে এগোতে চাই চরৈবতি, চরৈবতি।”
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়। সেই প্রেক্ষিতে জোড়াসাঁকোর মাটি থেকেই বাংলার নবনির্মাণের ডাক দেন তিনি। কবিগুরুর আদর্শ ও ভাবনাকেই সামনে রেখে রাজ্য পরিচালনার ইঙ্গিত দেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু জানান, নরেন্দ্র মোদী-র ইচ্ছাতেই রবীন্দ্র জয়ন্তী -র দিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কারণেই ব্রিগেডের অনুষ্ঠানেও ছিল বাঙালিয়ানার বিশেষ ছোঁয়া। শপথ নেওয়ার পর প্রথম সরকারি কর্মসূচি হিসেবে জোড়াসাঁকোতে আসার মধ্য দিয়ে তিনি সেই ভাবনাকেই আরও জোরদার করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বিপুল জয় পেয়েছে। সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংস্কৃতিক বার্তা অনেকের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের দিকেও জোর দিতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সব মিলিয়ে, শপথের পরপরই জোড়াসাঁকোতে উপস্থিত হয়ে কবিগুরুকে প্রণাম জানানো শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





