খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারিঃ প্রায় সাড়ে তিন দশকের সঙ্গীতযাত্রায় ভারতীয় সঙ্গীতকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন এ আর রহমান। বলিউড থেকে দক্ষিণী সিনেমা, হলিউড সব ক্ষেত্রেই তাঁর সুরে মুগ্ধ শ্রোতারা। অস্কার জয় থেকে শুরু করে ‘বন্দেমাতরম’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি, সব মিলিয়ে তিনি আজ নিঃসন্দেহে এক গ্লোবাল আইকন। অথচ সেই শিল্পীকেই নাকি হিন্দি সিনেদুনিয়ায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার হতে হচ্ছে সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রহমান।
এক সাক্ষাৎকারে ‘মাদ্রাজ মোজার্ট’ জানান, গত আট বছরে ধাপে ধাপে বলিউডে বহু কাজ হারিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতার বদল এবং ধর্মীয় বিভাজনের আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকেই হিন্দি সিনেমায় কাজের সুযোগ কমতে শুরু করে। যদিও কেউ সরাসরি কিছু বলেননি, তবে এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা তিনি বিভিন্ন মহল থেকে শুনেছেন বলেও দাবি করেন রহমান। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, বলিউডে কি সত্যিই ধর্মীয় ভেদাভেদ কাজ করছে ?
দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, কেন বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী সিনেমায় রহমানের উপস্থিতি বেশি। সেই প্রশ্নের উত্তরেই তিনি জানান, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব এবং ধর্মীয় বিভাজন এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যে সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল সর্বত্রই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
বিরোধী শিবিরের নিশানায় উঠে আসে বিজেপি। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ শাসকদলের নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে বলেন, “এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। বলিউডে বহু মুসলিম শিল্পী আজও সমান জনপ্রিয়।” বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র কুমার গোথওয়ালের মতে, বর্তমানে প্রতিভার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হচ্ছে, রাজনৈতিক সুপারিশের যুগ শেষ।
এমনকি বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষাও রহমানের দাবি খারিজ করে বলেন, “যোগ্যতা না থাকলে তিনি জাতীয় পুরস্কার বা আন্তর্জাতিক সাফল্য পেতেন না।” সব মিলিয়ে, রহমানের মন্তব্য নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে শিল্প, রাজনীতি ও ধর্মীয় মেরুকরণের জটিল সম্পর্ককে।





