শিলিগুড়ি, ১৯ ডিসেম্বরঃ সোনার মালা পরিষ্কার করে দেওয়ার নাম করে এক মহিলার কাছ থেকে সোনার চেন নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী। শুক্রবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির ভোরের আলো থানার অন্তর্গত সাউডাঙ্গি এলাকায়। ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতারিত মহিলা। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে এক যুবক ওই মহিলার বাড়ির সামনে এসে নিজেকে সোনার গয়না পরিষ্কার করার কারিগর বলে পরিচয় দেয়। সে দাবি করে, বিশেষ পদ্ধতিতে সোনার গয়না ধুয়ে দিলে নতুনের মতো ঝকঝকে হয়ে যাবে। কথায় ভুলিয়ে মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে সে। এরপর সোনার চেনটি পরিষ্কার করার কথা বলে হাতে নিয়ে কিছু দূরে নিয়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও যুবক ফিরে না আসায় সন্দেহ হয় মহিলার। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ওই মহিলা জানান, বহু কষ্টে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে তিনি সোনার চেনটি বানিয়েছিলেন। পারিবারিক ও আবেগের দিক থেকেও সেই চেনটির মূল্য ছিল তাঁর কাছে অনেক বেশি। এক মুহূর্তের বিশ্বাসেই সর্বস্ব খুইয়েছেন বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। সোনার গয়না পরিষ্কার, রঙিন পাথর বসানো বা পুরনো গয়না নতুন করে দেওয়ার নাম করে দুষ্কৃতীরা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভোরের আলো থানার পুলিশ। প্রতারিত মহিলার কাছ থেকে গোটা ঘটনার বিবরণ শোনেন পুলিশ আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দুষ্কৃতী সম্ভবত বাইরে থেকে এসে এলাকায় রেকি করছিল। একই কায়দায় সে অন্য কোথাও প্রতারণা করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত কারও হাতে সোনার গয়না না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ফের একবার শহরের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে চুরি যাওয়া সোনার চেন উদ্ধার করা যায় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সাউডাঙ্গি এলাকার বাসিন্দারা।





