মুর্শিদাবাদ, ৮ ডিসেম্বরঃ ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তাঁর উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ শুরু হওয়ার পরই এলাকায় কয়েক লক্ষ ইট এসে পৌঁছেছে রেজিনগরে। সেইসঙ্গে বাড়িতে ট্রাঙ্কভর্তি অনুদান পৌঁছনোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই বিপুল প্রকল্পের জন্য তিনি দেশে–বিদেশে বহু মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, শুধু একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাতা-ই ৮০ কোটি টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ছোট বড় নানা দিক থেকে নগদ ও ডিজিটাল মাধ্যমে আসছে অনুদান।
হুমায়ুনের বাড়িতে ইতিমধ্যেই ১১টি ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ অর্থ এসেছে। ৩০ জন মিলে সেই অর্থ গোনার কাজ চলছে। পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৯৩ লক্ষ টাকার বেশি জমা পড়েছে। অনুদানের পরিমাণ যে কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে তা নিশ্চিত হলেও মোট কত অর্থ সংগ্রহ হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাপক অঙ্কের অনুদান কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে তা ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসছে হুমায়ুন কবিরের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিসংখ্যানও। দুই দশকের বেশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা একাধিক দলে ছিলেন বলে জানা যায়। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস(ADR)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় হুমায়ুন কবির নিজের মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৭ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩০ টাকা, আর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭০ টাকা। হলফনামায় তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর কাছে একটি টাটা স্টর্ম সাফারি গাড়ি, ৮০ গ্রাম সোনা (মূল্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা), এবং কৃষিজমি রয়েছে।
বেলডাঙায় নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে স্থানীয় থেকে রাজ্য–রাজনীতি সর্বত্র যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তাতে অনুদানের হিসাব, নির্মাণের আইনি বৈধতা এবং রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি সবই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।





