কোচবিহার, ৬ আগস্টঃ জলাশয়ে মাছ ধরার নামে নির্বিচারে প্রাণহানি। সাপ, কচ্ছপ-সহ বহু জলজ ও বন্যপ্রাণী আটকে মৃত্যুর মুখে পড়ছে ‘চায়নাদুয়ারি’ বা স্থানীয়দের ভাষায় ‘শয়তান জাল’-এ। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযান চালাল কোচবিহার বনদপ্তর এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হিল’ । ডাউয়াগুড়ি ও হরিরহাট এলাকার বিভিন্ন জলাশয় থেকে মোট ১০টি নিষিদ্ধ জাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খবর আসছিল, এই সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করার ফলে শুধু মাছ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, কচ্ছপ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকে মারা যাচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এ দিন অভিযান চালানো হয়। বনকর্মী এবং ‘হিল’-এর সদস্যরা একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ জালগুলি উদ্ধার করেন।
অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন করা হয়। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চায়নাদুয়ারি বা ‘শয়তান জাল’ ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের জাল জলজ বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে। তাই ভবিষ্যতে কেউ এই জাল ব্যবহার করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
যদিও এ দিনের অভিযানে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বনদপ্তরের দাবি, অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই আগেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে কারা এই জাল ব্যবহার করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও অভিযান চালানো হবে।
বনদপ্তরের আধিকারিকদের মতে, বহু আগেই সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ধরনের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবুও কিছু এলাকায় এখনও গোপনে এই জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, স্থানীয় মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে। কারণ জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বনদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে এবং বন্যপ্রাণ রক্ষায় আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





