কলকাতা, ৯ আগস্টঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছেছিল। তার সঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ে আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও ছিল আপত্তি। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়ার কারণ প্রকাশ্যে আনলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের। তাঁর অভিযোগ, অভিষেকের ‘দুর্ব্যবহার ও মানসিক অত্যাচার’-এর কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তৃণমূলের অন্দরের একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হন আবু তাহের। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা তৈরির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। এমনকি সেই সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের এই পদ্ধতি নির্বাচনে দলের ফল খারাপ করতে পারে।
আবু তাহেরের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পরেও একই কথা তিনি মমতার কাছে তুলে ধরেছিলেন। ৮ তারিখ কালীঘাটে নেত্রীর বাড়িতে বৈঠকে গিয়ে প্রার্থী বাছাই নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা ফের জানান। পাশাপাশি সাংসদদের সঙ্গে অভিষেকের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, অভিষেকের সঙ্গে সাংসদদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘দুর্ব্যবহার’ এবং ‘মানসিক অত্যাচার’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই লোকসভার দলনেতা পরিবর্তনের জন্য মমতার কাছে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ‘বাধ্য হয়েই’ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফল বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তার মধ্যেই আবু তাহেরের এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগে যে আশঙ্কার কথা তাঁরা জানিয়েছিলেন, ফলাফল কার্যত সেটাই প্রমাণ করেছে।
এ দিকে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন আবু তাহের। একই শিবিরে গিয়েছেন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান-সহ আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতা। দলবদল নিয়ে এলাকায় কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হলেও কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে তা মিটেছে বলে দাবি আবু তাহেরের।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এনসিপিআই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে না। এনডিএ-র নামে বৈঠক হলে তাঁরা যাবেন না। ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থানই তাঁদের পথ বার্তা আবু তাহেরের।





