কলকাতা, ১৯ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে। পাশাপাশি, শুনানির সময় যাঁরা নথি জমা দিচ্ছেন, তাঁদেরকে স্বীকৃতি হিসেবে রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসতেই বারাসাতের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি খুশি এবং আনন্দিত। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং শুনানির সময় নথি জমা দেওয়ার রসিদও দিতে হবে। বিজেপির এসআইআর খেলা শেষ।”
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার বা নির্দিষ্ট অফিস খুলতে হবে, যেখানে ভোটাররা নথি জমা দিতে পারবেন এবং আপত্তি জানাতে পারবেন। রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করতে হবে। এসব কর্মীরা পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে বসে ভোটারদের বক্তব্য শুনবেন। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যকে উপযুক্ত পুলিশি ও আইন-শৃঙ্খলার বন্দোবস্ত রাখতে হবে।
এই নির্দেশের আলোকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানো হবে। অসঙ্গতিগুলি বিভিন্ন ধরনের: বাবার নামের গরমিল ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের, মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের, ৫০ বছর বা তার বেশি ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের। এছাড়া ‘প্রোজেনি ৬’ তালিকায় ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের নাম আছে, যাদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী অনেকের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ তালিকায় নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তালিকায় সংখ্যা নেমে এসেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়েছিলাম, এক কোটি ভোটারকে পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার বার্তা দিয়েছে।”
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে প্রতিটি ভোটারের জন্য স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে, রাজ্য এবং কেন্দ্রের রাজনৈতিক মহলে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা নিশ্চয়তা পেয়েছেন, তাদের অধিকার রক্ষা করা হবে এবং তথ্যগত অসঙ্গতির যথাযথ সমাধান হবে।





