খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জেলা ভিত্তিক নতুন প্যানেল প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তে ২০২০–২০২২ ডি.এল.এড ব্যাচের বহু প্রার্থী নতুন করে চাকরির আশায় বুক বাঁধছেন।
পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ২৬৪ জন যোগ্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্যানেলটি তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ৪ এপ্রিল ২০২৫-এর চূড়ান্ত রায় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নির্দেশিকা অনুসরণ করে। পাশাপাশি ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধি ও তার পরবর্তী সংশোধনও পুরো প্রক্রিয়ায় মানা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে (DPSC) দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে পর্ষদ।
প্রকাশিত তালিকায় জেনারেল ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির মধ্যে কাট-অফ নম্বরের স্পষ্ট পার্থক্য চোখে পড়ছে। মোট ২৬৪ জনের মধ্যে তপশিলি জাতি(SC) ক্যাটাগরি থেকে সর্বাধিক ১২৮ জন প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন। জেনারেল ক্যাটাগরিতে ৪৮ জন, OBC-A-তে ২৬ জন, OBC-B-তে ৬০ জন এবং ST ক্যাটাগরিতে ২ জনের নাম রয়েছে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী কাট-অফ নম্বরেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গিয়েছে। জেনারেল ক্যাটাগরির কাট-অফ ২৯.০২৯ হলেও SC ক্যাটাগরিতে তা নেমে এসেছে ২৪.৬২৫ পর্যন্ত। তবে এই মেধা তালিকা ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সংরক্ষিত ক্যাটাগরির কোনও প্রার্থী যদি জেনারেল কাট-অফের বেশি নম্বর পান, তবে তাঁকে জেনারেল তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্যানেলে দেখা যাচ্ছে, কিছু SC ও OBC প্রার্থী জেনারেল কাট-অফের চেয়েও বেশি নম্বর পেয়েও নিজ নিজ ক্যাটাগরিতেই রয়েছেন, যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে পর্ষদ দক্ষিণ ২৪ পরগনা DPSC-কে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রথমে প্রার্থীদের নথি যাচাই, এরপর কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্কুল বাছাই এবং সবশেষে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে। পর্ষদের তরফে প্রার্থীদের নিয়মিত জেলা সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





