মালদা, ১০ ডিসেম্বরঃ মালদহের কালিয়াচক ১ ব্লকের সুজাপুরে সরকারি কর্মতীর্থ কেন্দ্র আতশবাজির গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন তথ্য সামনে আসতেই রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। রাতের ঘুম উড়ে গেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ, বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি মজুত করে রাখা হচ্ছে সুজাপুরের সরকারি কর্মতীর্থ ভবনে। দ্রুত সেই মজুত সরানোর দাবি তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুঘাট ব্রিজ পেরিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত ওই কর্মতীর্থটি মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বেকার যুব-যুবতীদের হস্তশিল্প এবং পণ্যের প্রদর্শনী–বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার কয়েক বছর আগে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ভবন নির্মাণ করে। কিন্তু অভিযোগ, এখন সেই সরকারি কেন্দ্রই পরিণত হয়েছে বাজির গোডাউনে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, কর্মতীর্থের ঠিক পাশেই রয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরের সাপ্লাই প্রজেক্ট। আশপাশে রয়েছে জনবসতি, কাঠের মিল ও অন্যান্য কারখানা। ফলে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুণ্ডু জানান, “সবুজ বাজি মজুত করা হয়েছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা রয়েছে। আতশবাজি বিক্রেতাদের পৃথক গোডাউনের অভাব থাকায় আপাতত প্রশাসনের অনুমতিতে কর্মতীর্থে রাখা হয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।”
মালদা জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মানবেন্দ্র মণ্ডল দাবি করেছেন, “বাজিগুলি ইলেকট্রিসিটি–বিহীন নিরাপদ পরিবেশে রাখা হয়েছে। সবুজ জাতীয় বাজি হওয়ায় ঝুঁকি কম। তবু শহর থেকে দূরে দু’টি জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জায়গা পেলেই বাজিগুলি কর্মতীর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।”
তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় সরাসরি রাজ্য সরকারকে হাস্য করে বলেন, “বেকারদের স্বনির্ভর করতে করা হয়েছিল কর্মতীর্থ। সেখানে এখন বাজির গোডাউন! পাশেই বিদ্যুৎ সাপ্লাই কেন্দ্র। মানুষ ভয় পাচ্ছে। এই সরকার শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেছেন, “বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হবে। সত্যিই যদি কর্মতীর্থে বাজির গোডাউন থাকে, তাহলে দ্রুত অন্যত্র সরানোর অনুরোধ জানানো হবে।” এলাকাবাসীর দাবি, শীঘ্র ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।





