শ্রীনগর, ২৮ ডিসেম্বরঃ শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার বিভিন্ন দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে বর্তমানে অন্তত ৩০ জনের বেশি পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি আত্মগোপন করে রয়েছে। প্রবল ঠান্ডা, তুষারপাত এবং বরফে ঢাকা দুর্গম পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা নাশকতার ছক কষতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
এই তথ্য সামনে আসার পরই ভারতীয় সেনার নেতৃত্বে বড়সড় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানে অংশ নিচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ। যেসব এলাকায় শীতকালে সাধারণত নজরদারি কিছুটা শিথিল থাকে, সেই সমস্ত এলাকাকেও এবার বিশেষভাবে চিহ্নিত করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। হিমাঙ্কের অনেক নীচে তাপমাত্রা নামলেও সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই জঙ্গিদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছেন।
গোয়েন্দাদের অনুমান, কিশ্তওয়ার ও ডোডা জেলার মাঝারি ও উঁচু পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছে। এই সব অঞ্চলে সাধারণ মানুষের বসবাস তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আত্মগোপন করা সহজ হচ্ছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের কুখ্যাত ৪০ দিনের তীব্র শীতকালীন পর্ব ‘চিল্লাই কালান’-এর সময় নজরদারির ফাঁক গলে নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গিরা বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শীতকালীন অভিযানে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত সেনা ইউনিট নামানো হয়েছে। বরফে ঢাকা এলাকা এবং গভীর জঙ্গলে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ড্রোন, থার্মাল সেন্সর এবং নজরদারি যন্ত্র। নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকদের দাবি, এই কৌশলের মাধ্যমে জঙ্গিদের চলাফেরা, লুকিয়ে থাকা এবং রসদ সংগ্রহের পথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, শীতের আড়ালে কোনওভাবেই জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। উপত্যকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।





