নদিয়া, ১৬ আগস্টঃ স্বাধীনতা দিবসের রাতেই নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে গুলি করে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নাগাদি রেল আন্ডারপাস সংলগ্ন এলাকায় পথ আটকে আনিসুর রহমান এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনায় নাম জড়িয়েছে হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান জুব্বার শেখের। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী ফতেমা বিবি এবং ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাহেব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা, না কি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শনিবার রাত ৯টা নাগাদ ছেলেকে নিয়ে স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর। অভিযোগ, সেই সময় একটি কালো স্করপিও তাঁদের পথ আটকায়। গাড়ি থেকে নামিয়ে বাবা-ছেলেকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন দু’জন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাজ্য জুড়ে ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলবে।’’
প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও সমাজমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করে লিখেছেন, স্বাধীনতা দিবসে এমন হত্যাকাণ্ড মানুষের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পরিবারের তরফে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ দিকে, এটি সুপারি দিয়ে খুনের ঘটনা কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন।





