কোচবিহার, ৬ ডিসেম্বরঃ পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে ফের জেল হেফাজতের নির্দেশ হল কোচবিহার ২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত ব্লক সভাপতি সজল সরকারের বিরুদ্ধে। গত বুধবার কলকাতা পুলিশের একটি দল তাঁকে কোচবিহার জেলা আদালতে হাজির করে। সে সময় বহুদিনের একটি মামলার শুনানি হয়। বিচারক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সেদিনই সজল সরকারকে তিন দিনের জন্য জেল কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার দুপুর দু’টো নাগাদ ফের আদালতে হাজির করা হয় সজল সরকারকে। আদালতে সেদিন বেশ কিছু প্রাথমিক তথ্য ও নথি পেশ করা হয় পুলিশের তরফে। এরপর বিচারক জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ ডিসেম্বর কোচবিহার জেলা আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত সজল সরকারকে পুলিশ হেফাজতেই রাখতে হবে বলে নির্দেশ দেন আদালত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সজল সরকার একসময় কোচবিহার ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক মাস আগেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় সূত্রের খবর। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো মামলা–মোকদ্দমা নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোর পায়।
গত বুধবার তাঁকে আদালতে তোলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট কড়া। পুলিশের একাধিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সজল সরকারের বিরুদ্ধে যেসব মামলার তদন্ত চলছে, তার মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে ছিল। এবার আদালতের নির্দেশে মামলার গতি কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
এদিন আদালতে হাজিরা পর্ব শেষ হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার পরবর্তী শুনানিতে আরও কিছু প্রমাণ ও তথ্য পেশ করা হবে। সজল সরকারের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের মক্কেল নির্দোষ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে জড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের শুনানির দিকে নজর কোচবিহারবাসীর। এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ সজল সরকারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রা কোন পথে যাবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।





