নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: কারগিলের দুর্গম পাহাড়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সেনানীদের স্মরণে শনিবার আবেগঘন পরিবেশে পালিত হল কারগিল বিজয় দিবস। কোচবিহার শহরের সাগরদিঘির পার্শ্বে অবস্থিত পেটন ট্যাংকের সামনে জেলা প্রাক্তন সৈনিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে এবং সামরিক শৃঙ্খলার আবহে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পেটন ট্যাংকের সামনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কারগিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী সেনানীদের স্মরণ করা হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত সকলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন সেনাকর্মীরা বলেন, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ শুধু ভারতের সামরিক ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় নয়, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান কোনও দিন ভোলা সম্ভব নয়।
প্রাক্তন সেনাদের একাংশের মতে, কারগিলের বীরদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম, কর্তব্যবোধ এবং আত্মনিবেদনের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাই শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও সেনাবাহিনীর অবদান সম্পর্কে সচেতন করে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন কারগিল বিজয় দিবস।
অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সকলেই দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আবেগ ও গর্বের আবহে কোচবিহারে পালিত হয় কারগিল বিজয় দিবস, যেখানে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একসুরে উচ্চারিত হয় দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়।





